সর্বশেষ আপডেট :
নৌকা নেই, ভোট নেই’: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ডাক আরাফাতের রাঙ্গাবালীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতির বক্তব্যের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ‘প্যারোলে’ মুক্তি মেলেনি, কারা ফটকে প্রথমবার মৃত ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁয়ে কাঁদলেন সাদ্দাম ‘বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটে, ইউনূস সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার ৫ দফা ‘টপ গান’ লুকে ম্যাক্রো, সানগ্লাস কম্পানির সেয়ার মূল্য বেড়ে ৪ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না গেলে বিসিবির আর্থিক লস ৩৩০ কোটি টাকা পটুয়াখালীতে মান্তা সম্প্রদায়ের মাঝে এমপি মহিবের কম্বল বিতরন  জামায়াত কানেকশন ও দিল্লি সফর: সারাহ কুককে ফিরিয়ে দিল সাউথ ব্লক
‘বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটে, ইউনূস সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’

‘বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটে, ইউনূস সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’

নয়াদিল্লিতে ড. মোমেন

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান।

ড. মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস নামেমাত্র নোবেল বিজয়ী, কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন চরম দলীয় ও বিভেদ সৃষ্টিকারী শাসক। তার শাসনামলে দেশ অর্থনৈতিক ধস, অরাজকতা এবং চরম আইনহীনতার দিকে এগিয়ে গেছে।”

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের সঠিক পথে ছিল। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৬% এবং দারিদ্র্যের হার ৪২% থেকে ১৮%-এ নামিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে দেশে অরাজকতা নিয়ম হয়ে
দাঁড়িয়েছে।”

ড. মোমেন অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন পদ্ধতিগতভাবে তিনটি গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নাগরিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়। তিনি বলেন, “ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার মাধ্যমে সমাজকে বিভক্ত করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, লুটপাট এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নয়, বরং অপরাধের সহযোগী হওয়ার শামিল।”

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে কোটি মানুষ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং বিচার বিভাগকে ভীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে ড. মোমেন বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। মিডিয়া রিপোর্টের বরাতে তিনি দাবি করেন, এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি প্রায় ৭০% মানুষের সমর্থন রয়েছে। সংকট নিরসনে ড. মোমেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন:

১. সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ২. রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার। ৩. নির্বাচনের আগে সকল রাজবন্দি ও সাংবাদিকদের মুক্তি। ৪. সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার। ৫. ড. ইউনূসের পদত্যাগ এবং একটি প্রকৃত নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন।

বক্তব্যের শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশে যদি উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে তা কেবল সীমান্তের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

 

“আজকেরকন্ঠ”

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved
কারিগরি সহায়তা: Amader Kotha